সমকামিতা জিন দ্বারা নির্ধারিত নয় তবে…|প্রত্যয় প্রকাশ

(১)
সবেমাত্র শীতের বিদায় হয়েছে, বসন্তে সেজে উঠছে প্রকৃতি। গাছে গাছে সবুজ পাতা, আর গ্রামে গ্রামে পিঠে পুলির উৎসব। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনী গানের বর্নিল সময়ে রামধনুর মানুষদের নিয়ে আপনাদের একটি সংবাদ জানাব। যে সংবাদ একই সাথে সু এবং দুঃসংবাদ। যে সংবাদ একই সাথে আনন্দের এবং বিরহের। যে খবর নিয়ে উচ্ছ্বাস আর আলোড়ন ঘটবে প্রতিটা সমকামী বিদ্বেষীদের মন মননে আবার একই সংবাদকে ব্যবহার করবেন প্রতিটা সমকামী অধিকারের সপক্ষের সক্রিয় কর্মী তাদের অধিকারের পক্ষে চিরন্তন লড়াইয়ে। এটি একটি গবেষণার খবর, এই গবেষণালব্ধ জ্ঞান এখনো কোনো প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞান সাময়িকীতে (পিয়ার রিভিউড জার্নাল) ভূমিষ্ঠ হয় নি। কিন্তু এই খবরের ভ্রুণ সৃষ্টি হয়ে গিয়েছে আজ থেকে চারমাস পূর্বে জিন প্রকৌশলীদের একটি সভা সম্মেলনে, অনাগত এই খবরের ভয়ে সমকামিতার সপক্ষের জীববিজ্ঞানীরা বেশ ভালোভাবেই ভীত সন্ত্রস্ত। তারা এ জন্য কোনোভাবেই ভীত নন যে নতুন জ্ঞানের উদঘাটন বর্নিল সম্প্রদায়ের মানুষের অস্তিত্বে আঘাত হানবে বরং তাদের ভ্রুযুগলে চিন্তার বলিরেখা সৃষ্টি হয়েছে একারণেই, সাধারণ লোকসমাজে এই জ্ঞান কিভাবে চর্চিত হবে। আবার একইসাথে সমকামিতা নিয়ে সমকামী বিদ্বেষীদের এক বা একাধিক প্রশ্নের সমুচিত জবাব দেওয়ার কথা, সেই জবাব সমৃদ্ধ অস্ত্র উঠে আসছে প্রগতিশীল সম্প্রদায়ের হাতে। হতাশা এবং আনন্দের এই খবরের গল্প শুনাব আজ। শুরু হোক আজকের গল্পকথন।

সবেমাত্র শীতের বিদায় হয়েছে, বসন্তে সেজে উঠছে প্রকৃতি। গাছে গাছে সবুজ পাতা, আর গ্রামে গ্রামে পিঠে পুলির উৎসব। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনী গানের বর্নিল সময়ে রামধনুর মানুষদের নিয়ে আপনাদের একটি সংবাদ জানাব। যে সংবাদ একই সাথে সু এবং দুঃসংবাদ। যে সংবাদ একই সাথে আনন্দের এবং বিরহের। যে খবর নিয়ে উচ্ছ্বাস আর আলোড়ন ঘটবে প্রতিটা সমকামী বিদ্বেষীদের মন মননে আবার একই সংবাদকে ব্যবহার করবেন প্রতিটা সমকামী অধিকারের সপক্ষের সক্রিয় কর্মী তাদের অধিকারের পক্ষে চিরন্তন লড়াইয়ে। এটি একটি গবেষণার খবর, এই গবেষণালব্ধ জ্ঞান এখনো কোনো প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞান সাময়িকীতে (পিয়ার রিভিউড জার্নাল) ভূমিষ্ঠ হয় নি। কিন্তু এই খবরের ভ্রুণ সৃষ্টি হয়ে গিয়েছে আজ থেকে চারমাস পূর্বে জিন প্রকৌশলীদের একটি সভা সম্মেলনে, অনাগত এই খবরের ভয়ে সমকামিতার সপক্ষের জীববিজ্ঞানীরা বেশ ভালোভাবেই ভীত সন্ত্রস্ত। তারা এ জন্য কোনোভাবেই ভীত নন যে নতুন জ্ঞানের উদঘাটন বর্নিল সম্প্রদায়ের মানুষের অস্তিত্বে আঘাত হানবে বরং তাদের ভ্রুযুগলে চিন্তার বলিরেখা সৃষ্টি হয়েছে একারণেই, সাধারণ লোকসমাজে এই জ্ঞান কিভাবে চর্চিত হবে। আবার একইসাথে সমকামিতা নিয়ে সমকামী বিদ্বেষীদের এক বা একাধিক প্রশ্নের সমুচিত জবাব দেওয়ার কথা, সেই জবাব সমৃদ্ধ অস্ত্র উঠে আসছে প্রগতিশীল সম্প্রদায়ের হাতে। হতাশা এবং আনন্দের এই খবরের গল্প শুনাব আজ। শুরু হোক আজকের গল্পকথন।

পৃথিবী জুড়ে থাকা বিভিন্ন সংস্কৃতিভেদে ২ থেকে ৫ শতাংশ মানুষ সমকামী হয়। যদি সমকামিতাকে বিবেচনায় নিতে হয় তাহলে এটা তো পরিষ্কার যে দুজন সমকামী যুগল এর মধ্যে কখনোই সন্তান জন্ম হবে না এবং সমকামীতা জিনগত হলে, যেহেতু এর কোনো উপযোগিতা নেই, তাই যোগ্যতার প্রতিযোগিতায় সেই জিনের ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ কাল পরিক্রমায় তা হারিয়ে গেল না। কেন?

জীববিজ্ঞানীদের কাছে এটি একটি ধাঁধার মত ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সমকামিতা নিয়ে করা এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় জিনগত গবেষণা থেকে এর একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া গেছে। এ গবেষণা থেকে বলা হচ্ছে জেনেটিক ফ্যাক্টর আছে যা মানুষকে সমকামী করে তার পাশাপাশি যখন কোন বিষমকামী ব্যক্তির মধ্যে এই জেনেটিক ফ্যাক্টর বিদ্যমান থাকে, তখন সেসব বিষমকামী ব্যক্তির অধিকতর যৌনসঙ্গী থাকে এবং প্রজননে সফলতা দেখা যায়। এই গবেষণা এখন অবধি অপ্রকাশিত হলেও ইতোমধ্যে ক্যাম্ব্রিজের জিনোম রিসার্চ সেন্টারে জিন প্রকৌশলীদের একটি সম্মেলনে এই গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করার পরপরই তা আলোচনায় উঠে আসে।[১] উপরোক্ত বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পূর্বে এ গবেষণার খবরের ভিতরের খবর শুনা যাক।

(২)
সমকামিতা জিনগত কী জিনগত না তা নিয়ে আগ্রহ যেমন দেখা গিয়েছে বিজ্ঞানীদের মধ্যে, ঠিক একইভাবে এবিষয়ে আগ্রহী সাধারণ মানুষও। এজন্য বিজ্ঞানীদের নিরন্তর গবেষণার মধ্যে একের পর এক তথ্য সামনে আসছে। এবিষয় নিয়ে এরকমই একটি গবেষণার খবর বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে অক্টোবর ২০১৮ তে। যদিও গবেষণা প্রবন্ধটি এখনো প্রতিষ্টিত জার্নালে প্রকাশ পায় নি, কিন্তু যে বিশাল সংখ্যক নমুনা এখানে ব্যবহার করা হয়েছে, তা যে অচিরেই প্রকাশ পাবে, তা বলাই বাহুল্য।

গবেষণাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং সুইডেনের প্রায় ৫ লক্ষ মানুষের উপর তাদের ডিএনএ ডাটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে। যুক্তরাজ্যের বায়োব্যাংক এবং বেসরকারী সংস্থা 23andMe থেকে ক্রেতার ডিএনএর ডাটা বিজ্ঞানীরা ব্যবহার করে দেখেন যারা সমলিঙ্গের সাথে যৌনক্রিয়া করে তাদের ক্ষেত্রে চারটি প্রকরণ অনেকটাই কমন। এবার একটু বিষয়টা ব্যাখ্যা করা যাক।

এই গবেষণায় সুনির্দিষ্টভাবে দুটি ধাপ অনুসরন করা হয়েছিল। তাদের প্রশ্ন করা হয়েছিল: কয়জন যৌনসঙ্গীর সাথে তারা সঙ্গম করেছেন এবং তারা সমলিঙ্গের মানুষের সাথে কখনো সঙ্গম করেছে কিনা? ৪ লক্ষ ৫০ হাজার ৯৩৯ জন মানুষ জানান তারা সম্পুর্ণভাবে বিষমকামী এবং তারা যৌন সঙ্গমও বিপরীত লিঙ্গের মানুষের সাথে করেছেন। পক্ষান্তরে ২৬ হাজার ৮৯০ জন মানুষ জানায় তারা একবারের জন্য হলেও সম লিঙ্গের মানুষের সাথে যৌনসঙ্গম করেছিল।

যেসব মানুষ জীবনে একবারের জন্য হলেও সমলিঙ্গের মানুষের সাথে যৌন সঙ্গম করেছেন তাদের ডিএনএর প্রকরণে সুনির্দিষ্ট কোনো মিল আছে কিনা, এমনটাই গবেষকরা অন্বেষণ করতে গিয়ে দেখতে পান; এরকম চারটি প্রকরণের অস্তিত্ব আছে যা যথাক্রমে ৭, ১১, ১২ এবং ১৫ নং ক্রমোজমে অবস্থিত। এই চারটি প্রকরণের মধ্যে দুটি পুরুষের জন্য নির্দিষ্ট এবং বাকি দুইটি নারী পুরুষ উভয়ের মধ্যেই পাওয়া গিয়েছে। একটি প্রকরণ পাওয়া গিয়েছে ১৫ নং ক্রমোজমের ডিএনএ গুচ্ছতে, যা পুরুষের টাক হয়ে যাওয়াকে প্রভাবিত করে। অন্যটি পাওয়া গিয়েছে ১১ নং ক্রোমোজোমের এমন একটি এলাকায়; যা অলফ্যাক্টরি রিসেপ্টর দ্বারা সমৃদ্ধ। গানা উল্লেখ করেন যৌন আকর্ষণের জন্য ঘ্রানব্যবস্থা বিশাল ভূমিকা পালন করে। এই দুটি প্রকরণ যেসব পুরুষ সমলিঙ্গ সঙ্গী নির্বাচন করে তাদের ক্ষেত্রে এবং অবশিষ্ট দুইটি প্রকরণ যেসব নারী-পুরুষ সমলৈঙ্গিক সম্পর্ক নির্বাচন করে তাদের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে। উল্লেখ করার মত বিষয় হলো; গবেষকরা এমন কোনো একক বা জিনের গ্রুপ খুঁজে পাননি যা সমকামী স্বভাবকে নির্ধারণ করে, কিন্তু এই প্রকরণ এর জন্য যৌন সঙ্গী নির্বাচনে একটি প্রভাব যে পরে, তা গবেষকরা নিশ্চিত করছেন।

মনস্তত্ত্ববিদ লিসা ডায়মন্ড এই গবেষণা নিয়ে একই সুরে সুর মিলিয়ে বলেন, আমরা যেমনটা পূর্ব থেকেই অন্যান্য গবেষণা থেকে জানি, নারীর যৌনতা থেকে পুরুষের যৌনতায় জিন অনেক বেশি প্রভাব ফেলে। কোনো প্রজাতির কোনো যৌনতায় তারল্য দেখা যাওয়া বা যৌনসঙ্গী হিসেবে দুই ধরনের লিঙ্গকে পছন্দ করাটা প্রকৃতিতে বিরল নয়। মানুষের মধ্যে পুরুষের যৌনতা জিনের সাথে দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

কিন্তু তার মানে এই নয় যে, জিনই মানুষের যৌন অভিমুখিতা নিয়ন্ত্রণ করে। “সমলিঙ্গে যৌনতা জিনগতভাবে প্রভাবিত হতে পারে, কিন্তু জিন দ্বারা নির্ধারিত নয়।” অর্থাৎ মানুষের যৌনতার সাথে জিনগত যে প্রভাব আছে, আমরা তা বুঝতে পারলেও কিভাবে এই প্রভাব কাজ করছে, আমরা তা এখনো জানি না। শুধুমাত্র মানুষের যৌন অভিমুখিতার ক্ষেত্রে নয়, মানুষের স্বভাব যেমন ধুমপান, এলকোহল ব্যবহার, ব্যক্তিত্ব এবং এমনকি চাকরীর সন্তুষ্টি এসবকিছুর ক্ষেত্রেও কিছুটা হলেও জিনগত উপাদান জড়িত এবং জিন কিভাবে এসবে প্রভাবে ফেলে তাও আমরা আজো জানি না।

(৩)
১৯৯৩ সালের ছোট গবেষণা এবং ২০১৪ সালে জমজ ভ্রার্তৃদ্বয়ের উপর করা গবেষনা থেকে দেখা যায়, এক্স ক্রোমোজমের ডিএনএর একটি ছাচঁ সমকামিতার সাথে যুক্ত এবং তা উত্তরাধিকার সূত্রে স্থানান্তরিত হয়। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় সমাকামিতার জন্য দায়ী এ জাতীয় কোন ধরনের ডিএনএ ছাঁচের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। কিন্তু ১৯৯৩ সালের গে জিন সংক্রান্ত গবেষণার প্রথম পরিচালক ডিন হ্যামার নতুন এগবেষণার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন “সঠিক মানুষ এবং সঠিক প্রতিষ্ঠান দ্বারা অবশেষে যৌন অভিমুখিতার সাথে জিনের সম্পর্ক বিষয়ক এই কাজটি কেউ তো করল।” তিনি আরো বলেন, এটি হলো সে গবেষণা যা ১৯৯৩ সালে আমরা করতে পছন্দ করতাম।”

সমকামিতার সাথে সংশ্লিষ্ট যে চারটি জেনেটিক প্রকরণ খুঁজে পাওয়া গিয়েছে, তার সাথে মন-মেজাজ এবং মানসিক স্বাস্থ্যেরও সংযোগ রয়েছে। এই প্রকরণে মিল আছে এবং নারী পুরুষ উভয়ই বিস্তৃতপরিসরে মনোবিকার এবং স্কিৎসোফ্রেনিয়া এবং বিশেষত নারীরা বাইপোলার বৈকল্যের সাথে সংযোগ রয়েছে। গবেষণা দলের অন্যতম প্রধান গবেষক গানা জানান, গবেষণা এটা কখনোই দাবী করছে না, এইসব প্রকরণের জন্যই উক্ত বৈকল্য গুলো গড়ে উঠে। “বরং এটা বলা যায়, এই প্রকরণ যাদের মধ্যে বিদ্যমান তারা যেহেতু বিষমকামী নন, সমাজ কর্তৃক নানাবিধ বৈষম্যের শিকার তারা হন এবং এর ফলেই উক্ত হতাশাগুলোর ক্রমবিকাশ ঘটে।”

গানা আরো উল্লেখ করেন, এইসব হতাশাপ্রবণতা বা স্কিৎসোফ্রেনিয়ার সাথে সংযোগ যাদের মধ্যে দেখা গিয়েছে, তারা তুলনামুলক বয়স্ক। তিনি এই মর্মে এই সিদ্ধান্ত টানেন যে, সম্ভবত আজকের যুগের তরুণদের চেয়ে সেইসব বয়স্ক মানুষরা অনেক বেশি বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। এসবকিছুর সারসংক্ষেপ করতে গিয়ে গানা বলেন, তার অন্বেষণ সেই উপাত্তকে পুনরায় স্থাপন করেছে যে, মানুষের যৌন স্বভাব কখনোই ডিএনএর সাধারণ গুচ্ছের কাছে বাধা পরে নেই এবং যৌন আচরণ বেশ জটিল। তিনি বলেন, “আমি; কোনো গে জিন নেই এ ঘোষণা করতে আনন্দ বোধ করছি।” তিনি আরো বলেন, “বরং অবিষমকামিতা অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জেনেটিক প্রভাব দ্বারা প্রভাবিত।” গানা সায়েন্সকে বলেন, গবেষকরা জিনগত প্রকরণকে প্রকৃত জিনের সাথে বাধনের চেষ্টা করে যাচ্ছে এবং এটি পরিস্কার নয় কোডিং অথবা ননকোডিং ডিএনএর ছাঁচে একে ফেলা সম্ভব কিনা। ডিএনএর এইসব এলাকা প্রকৃতপক্ষে কী করে, তা নির্ধারণ করাই তার টিমের পরবর্তী কাজ। [৩]

তিনি আরো বলেন, যে চারটা প্রকরণ খুঁজে পাওয়া গিয়েছে, এপ্রকরণ দেখে কখনোই কারো যৌন অভিমুখিতা প্রসঙ্গে ভবিষ্যৎবানী করা যায় না। এই গবেষণায় যেসব নারী সমলিঙ্গের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছেন, তাদের মধ্যকার প্রথমবারের মত জিনগত সংযোগ খুঁজে পেলেও তা উল্লেখযোগ্য নয়। এর অর্থ হতে পারে, হয় গবেষকদের আরো একাধিক নারী স্বেচ্ছাসেবী প্রয়োজন অথবা মানুষের যৌন অভিমুখিতা নামক গবেষনা পরিচালনায় সুক্ষ্ম তারতম্য এটি ধরতে পারে নি।

(৪)
এখন আবার সেই প্রসঙ্গে ফিরে আসি, কেন আর কীকারণে সমকামিতার মত একটি বৈশিষ্ট্য যা বংশধর তৈরী করতে পারে না, তা আজো সমাজে টিকে গেল? এই গবেষণা একইভাবে তার উত্তরও দিচ্ছে। গবেষকরা জানাচ্ছেন, যাদের মধ্যে এই চারটি প্রকরণ থাকার কারণে সমকামী, তারা তো সমকামীই, কিন্তু যাদের মধ্যে এই চার জায়গায় প্রকরণ একই থাকা সত্ত্বেও বিষমকামী তাদের যৌন সঙ্গী একাধিক হয়ে থাকে। এতে প্রজননের সংখ্যা বাড়ে। শুধু তাই না, গবেষকরা আরো বলছেন, এই প্রকরণের বাহক কিন্তু ব্যক্তি বিষমকামী হলে সে তার বিপরীত লিঙ্গের কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠে। এর ফলে সমকামিতার প্রকরণের বাহক কিন্তু একইসাথে বিষমকামী ব্যক্তির তার প্রজন্মে সমকামিতা ছড়িয়ে পড়া অপেক্ষাকৃত সহজতর হয়। এই গবেষণাটি এখনো অপ্রকাশিত এবং এটি জার্নালে সাবমিট করা হয়েছে, এত বিস্তৃতপরিসরে করা এই গবেষণাটি যে শীঘ্রই পিয়ার রিভিউড জার্নাল আর্টিকেলে প্রকাশিত হবে, তা বলাই বাহুল্য।

এইধরনের আপাত বিরোধী একটি বিষয় প্রকৃতপক্ষে বিবর্তনেরই একটি ফ্যাক্ট। যেমন দেখা যায়, কাস্তে কোষ ব্যাধি (সিকল সেল এনিমিয়ার) ক্ষেত্রে, যা সৃষ্ট হয় জিন প্রকরণের জন্য, অথচ এই কাস্তে কোষ ব্যাধি ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে। এই ভারসাম্যের জন্যই কাস্তে কোষ ব্যাধি এখনো বিলুপ্ত হয় নি। গবেষকদের মতে অবিষমকামিতা নিয়ে তাদের প্রাপ্ত তথ্যই শেষ কথা নয়, তবে তা ডারউইনীয় ভারসাম্য পূর্ণ ক্রিয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

(৫)
এই বিষয়ের উপর বিভিন্ন গবেষকদের উদ্ধৃতিঃ

মনস্তত্ত্ববিদ মাইকেল ব্যালি, এগবেষণাকে উদ্ধৃত করে বলেন, আমরা ধীরে ধীরে সত্যের কাছে পৌছাচ্ছি। কিন্তু সমকামী কে এই প্রশ্নে ব্যালে জানান, উক্ত গবেষণাটি আদর্শ নয়। কারণ তার মতে যৌন ইতিহাস নিয়ে স্ব ঘোষিত প্রতিবেদন এর উপর ভিত্তি করে এই গবেষণা করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, the researchers may have categorized people willing to experiment sexually along with those who consider themselves gay. ব্যালে আরো বলেন সমলিঙ্গে সঙ্গম মাত্রই যে ব্যক্তি সমকামী তাতো নয় এবং তারা সমলিঙ্গে সঙ্গমই করেছে মাত্র, সমলিঙ্গের প্রতি চুড়ান্তভাবে আকৃষ্ট নাও থাকতে পারে। অথচ এই গবেষণায় এবিষয়টিকে আলাদা কোনো ছকের মাধ্যমে স্বতন্ত্রভাবে দেখানো হয় নি। যাকে ব্যালে গবেষণার একটি ত্রুটি হিসেবে দেখেছেন। তিনি আরো বলেনঃ এটি যদিও একটি মাইলফলক কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত একে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বলা যাবেনা, যতক্ষণ না এই প্রকরণের উপর ভিত্তি করে কারো সমকামী হওয়ার কারণকে ব্যাখ্যা করা যাবে না।

মানুষের যৌন স্বভাব এর সাথে যৌন পরিচয়ের মধ্যকার পার্থক্যকে এই গবেষণা থেকে উদঘাটন করা সম্ভব নয় বলে জৈব ভেষজবিদ্যার শিক্ষার্থী ক্যামেরন রদ্রিগুজ এবং নিকলে ফেরারো বলেন।

রিজেনেরন ফার্মাসিউটিক্যালের জিনোম ইনফরম্যাটিক্সের প্রধান এবং সমকামী জেফ্রি রেইড, এই জাতীয় আবিষ্কার মিডিয়াতে কিভাবে আলোচিত হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে এই আবিষ্কার সঠিকভাবে না জেনে যদি মিডিয়াতে চর্চা করা হয়, তবে যারা ইতোমধ্যে ঝুঁকিতে আছে, তাদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

(৬)
উপসংহার: এই গবেষণা থেকে মুলত দুটি বিষয় উঠে এসেছে, মানুষের যৌনতা কখনো একটি জিন দ্বারা নির্ধারিত হয় না, তাই সমকামিতা কখনোই শুধুমাত্র একটি জিন দ্বারা নির্ধারিত নয়। তবে ডিএনএর প্রকরণ বা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেকগুলো জিনের প্রভাবের দরুণ মানুষ সমকামী হওয়া বা বিষমকামী হওয়া প্রভাবিত হয়। একইসাথে গবেষকরা এও দাবী করছেন, বিবর্তনীয় গতিধারায় সমকামিতার একটা উল্লেখযোগ্য অবদান আছে, যার জন্যই বিবর্তনের ছাঁকুনিতে সমকামিতা অবলুপ্ত হয় নি।

তথ্যসূত্র

1) http://programme.exordo.com/bga18/delegates/presentation/16/
2) https://www.technologyreview.com/s/611946/genes-linked-to-being-gay-may-help-straight-people-get-more-sex/
৩) https://www.sciencemag.org/news/2018/10/giant-study-links-dna-variants-same-sex-behavior
৪) https://www.statnews.com/2018/10/24/genetics-same-sex-attraction/
৫) https://ep70.eventpilot.us/web/page.php?nav=false&page=IntHtml&project=ASHG18&id=180120617
৬) https://www.sciencenews.org/article/genetics-dna-homosexuality-gay-orientation-attractiveness-straight

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.