বুদ্ধিহীন পরজীবীর বুদ্ধিমত্তার গল্প – পর্ব ১ |প্রত্যয় প্রকাশ

এ পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে ইহুদীরা প্রবল প্রতাপে তাদের রাজত্ব চালাচ্ছে। জনসংখ্যায় কম হলেও জ্ঞান বিজ্ঞানের শীর্ষস্থান তাদেরই দখলে, কিন্তু অসাধারণ এই জাতির ইতিহাসের পরতে পরতে কলঙ্কের অমনোচনীয় দাগ পরে যায় যখন উঠে আসে ফিলিস্তিনিদের কথা। যে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে একদা এই ইসরায়েলের অধিবাসীরা স্থান পেয়েছিল, আজ সে ভূখণ্ডের আদি মালিকরাই সদা সর্বদা ভীত থাকে। আশ্রয়দাতাই যখন আশ্রিতের ভয়ে ভীত হয়, বা উপকারীই যখন উপকৃতের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়, ব্যাকরণের ভাষায় সেই ক্ষতিকারীকে বলা হয় কৃতঘ্ন। মধ্যপ্রাচ্য পেরিয়ে এরূপ কৃতঘ্নদের দেখা মেলে আমাদের এই বাংলাদেশেই। মীয়ানমারের ক্রমাগত অত্যাচারে পালিয়ে আসা যেসব রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশীরা বুক পেতে একসময় আশ্রয় দিয়েছিল, আজ সে রোহিঙ্গারাই মাদকসম্রাটদের প্রকৃত ম্যানপাওয়ার। এ কৃতঘ্নদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও দিনে দিনে এরাই যে অদূর ভবিষ্যতে অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে নানাবিধ আশঙ্কার কথা বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন। মানুষের দুনিয়ায় এরূপ কৃতঘ্নের দেখা যেমন মেলে, জীবজগতের দুনিয়ায় একইরকম কৃতঘ্নদের আমরা দেখি। এরা তাদের আশ্রয়কারীদের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে ওঠে। এদের জীববিজ্ঞানে ডাকা হয় প্যারাসাইট বা পরজীবী হিসেবে। এরূপ কিছু পরজীবীর গল্প নিয়ে আজকের গল্পকথন, যাদের কৌশল দেখে সত্যিই বিষ্মিত না হয়ে উপায় নেই।

১। ইউহাপ্লোর্সিস ক্যালিফোর্নিয়েন্সিস (Euhaplorchis californiensis)

Euhaplorchis californiensis

যদি পরজীবীদের রাজ্যে প্রকৌশলী, চিকিৎসকের মত পেশা থাকে, তবে সেসব পেশার অধিকারী কারা হবে ঠিক বলতে না পারলেও ইউহাপ্লোর্সিস ক্যালিফোর্নিয়েন্সিস (Euhaplorchis californiensis) এর প্রতিটা সদস্য একজন দক্ষ নাবিকের মত দিক নির্ধারক যে হবে, তা নিশ্চিন্তে বলে দেওয়া যায়। এই পরজীবীর সদস্যরা তাদের জীবনচক্রের যাত্রাপথে তিনটা পোষককে ত্যাক্ত বিরক্ত করে। প্রথমে এই পরজীবীর ডিম পাখির বিষ্ঠায় মুক্ত হয়। শৃঙ্গ শামুক (হর্ন স্নেইল) এই বিষ্ঠাকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। খাদ্য হিসেবে এই প্যারাসাইটকে গ্রহণ করার পর এই শৃঙ্গ শামুক অনুর্বর (অর্থাৎ প্রজননক্ষমহীন হয়ে পরা) হয়ে যায়।

সেখানে কয়েক প্রজন্ম ধরে ডিম থেকে বের হওয়া লার্ভা নিজেরা অযৌন প্রজননের মাধ্যমে ক্লোন করে সংখ্যা বৃদ্ধি করে। এসময় তাদের লেজের মত উপাঙ্গ থাকে যা পানিতে সাতার কাটতে সক্ষম। এরপর প্রতিদিন হাজার হাজার এই পরজীবী শামুক থেকে বেরিয়ে আসতে থাকে এবং বের হয়ে পরবর্তী পোষক কিল্লিফিশ যে স্থানে আছে, সেদিকে ছুটতে থাকে। এক্ষেত্রে পরিবেশকে তারা ক্লু বা সুত্র হিসেবে ব্যবহার করে। তারা পরবর্তী পোষক কিল্লিফিশের চামড়ায় ছিদ্র করে তার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। প্রবেশ করার সময়, এই প্যারাসাইটগুলো তাদের লেজ হারায়। চোষক ব্যবহার করে অনেকটা হামাগুড়ি দিয়ে শরীর থেকে তারা মাছের মস্তিষ্কে পৌছে যায়। এই প্যারাসাইট মস্তিষ্কে কার্পেটে মত একটি স্তর তৈরী করে। গবেষকদের মতে যেসব কিল্লিফিস এই প্যারাসাইট দ্বারা আক্রান্ত হয়, তারা অনাক্রান্ত কিলফিসের তুলনায় চারগুণ বেশি পানির উপরিভাগে অবস্থান করে।

মাঝে মাঝে এমনভাবে পল্টি খায় যেন তাদের রুপালী পেট আলোতে ঝিলিক মারে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে নিজের শরীরকে একপাশ থেকে অন্যপাশে নিয়ে ছুটতে থাকে। অর্থাৎ পরিস্থিতি এমন যেন কিল্লিফিস নিজে থেকে আকাশে উড়ে বেড়ানো শিকারী পাখিকে ডেকে বলছে, “আহো ভাতিজা আহো, আমাকে খাও“। হয়ও ঠিক তাই। এই সমস্ত কারণে প্যারাসাইটে আক্রান্ত কিল্লি ফিস শিকারী পাখির চোখে বেশি পরে, এবং এজাতীয় কিল্লিফিস প্যারাসাইট অনাক্রান্ত কিল্লিফিসের তুলনায় ৩০ গুণ বেশি শিকারী পাখির খাদ্যে পরিণত হয়। একবার সেই মাছ খাওয়ার পরে মাছে অবস্থিত প্যারাসাইট পাখির অন্ত্রে বসবাস করতে শুরু করে এবং পাখির বিষ্ঠাতে ডিম উৎপন্ন করে। পাখি জলাশয়ে সেই মলত্যাগ করে এবং এভাবেই প্যারাসাইটটির জীবনচক্র চলতে থাকে। আর কিল্লিফিসের মৃত্যুর গল্প স্থান পেতে থাকে হয়তো মাছেদেরই পত্রিকায় “দুর্বৃত্তের শিকারে মৃত্যু শিরোনামে।”

২। লিউকোক্লোরিডিয়াম (Leucochloridium paradoxum)

Leucochloridium paradoxum

৩ টা পোষককে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরানো মজা, কিন্তু এতে অতিরিক্ত শক্তি ব্যায় হয়, এমন যদি হত, শামুক খাদ্য গ্রহণ করলে শামুকেই কিছু স্বভাব পালটে দেওয়া যায়, তাহলে আর কষ্ট করে বাড়তি পোষকের কাছে যেতে হত না এবং ঠিক এই কৌশলটাই প্রয়োগ করে লিউকোক্লোরিডিয়াম প্যারাডক্সিয়াম (Leucochloridium paradoxum) নামক সমতল কৃমি। এই পরজীবী জীবনের বেশিরভাগ সময়ই কোন পাখির দেহে কাটিয়ে দেয় এবং পাখির দেহে তেমন কোনো ক্ষতি করে না। নিজের রুটি রুজিতে কেই বা লাথি দিতে চায় বলেন। তবে পরজীবীর জীবন চক্রের মধ্যবর্তী পর্যায়ে, অর্থাৎ পাখির দেহে ডিম পাড়ার পর, সেখানে এই পরজীবীর বাচ্চাকাচ্চা তৈরী হয় না। তাদের দরকার নতুন বাসস্থান। আর তার সংস্থান করে Succinea নামক এক শামুক।

প্রথমে পাখির দেহে ডিম পাড়ার পর সে ডিম পাখির মলের মাধ্যমে বাইরে বেরিয়ে আসে এবং এরপর শামুক মলসহ সেই ডিমকে নিজের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে নেয়। লার্ভা দশায় পরজীবী টি শামুকের পরিপাকতন্ত্রে আসে যেখানে স্পোরোসিস্ট তৈরি হয় এবং এদের সংখ্যা বৃদ্ধি হয়। এরপর করিৎকর্মা এই পরজীবী যে খেলাটা খেলে তা সত্যিই আনইন্টেলিজেন্ট প্রকৃতির এক নিষ্ঠুর পাশার দান। এই পরজীবীগুলো শামুকের চোখ আক্রমণ করে। আক্রমণ করে চোখকে এমনভাবে স্ফীত করে যাতে তা একইসাথে রঙিন ও স্পন্দিত হতে থাকে। দেখে যেন মনে হয় এটা ক্যাটারপিলার বা শুয়োপোকা। অন্ধকারে এই চোখ একটুও স্পন্দিত না হলেও আলোতে বারবার স্পন্দিত হতে থাকে, যাতে শত্রুর চোখে খুব সহজেই ধরা পরে যায়।

পোল্যান্ডের একটা গবেষণায় দেখা গিয়েছে এই পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত শামুকদের ৫৩ শতাংশই উন্মুক্ত স্থানে থাকে, গাছের উপরে বসে থাকে এবং এমন জায়গা নির্বাচন করে, যাতে সহজে বহিঃশত্রুর চোখে পরে। যা অনাক্রান্ত শামুক করে না। আর এভাবেই পাখির দ্বারা সহজ শিকারে পরিণত হয় পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত শামুক। পাখির পেটে যাওয়ার পর এই পরজীবী পূর্ণাঙ্গ দশা প্রাপ্ত হয় এবং সেখানেই প্রজনন ঘটায় এবং উৎপন্ন ডিম পুনরায় বেরিয়ে আসে আর কোনো দুর্ভাগা শামুক তা গ্রহিণ করে এবং তার হতভাগাপনা চলতেই থাকে।

৩। সিস্টোসেফকলাস (Schistocephalus solidus)

Schistocephalus solidus

পৃথিবীর যেমন এমন কোনো জায়গা নাই, যেখানে মানুষের পদচারণা পরে নি, একইভাবে এইসব পরজীবীদেরও এমন কোনো সদস্য নেই, যারা হেন কোনো টেকনিক নেই যা প্রয়োগ করেনি। ইউহাপ্লোর্সিস এর সদস্যরা যেমনঃ পাখি→শামুক→মাছ কে পোষক হিসাবে ব্যবহার করে। লিউকোক্লোরিডিয়ামে নামক পরজীবীর সদস্যরা যেমন শুধুমাত্র পাখি→শামুককে পরজীবী হিসেবে ব্যবহার করে। সেজায়গায় সিস্টোসেফালাস নামক ফিতাকৃমিরা পাখি→মাছকে পোষক হিসেবে ব্যবহার করে। এখানে একটা ঝামেলা আছে তাই না? পাখি উড়ে আকাশে, পাখি থেকে সমুদ্রে মাছের দেহে সেই পরজীবীর আসা একটু যেন মক্কা-মদিনার মত দূরত্ব হয়ে গেলো তাই না? বিবর্তনের পরম্পরায় এই পরজীবীগুলো তাই প্রধান পোষক হিসেবে মাছখেকো পাখির দেহেই আশ্রয় নেয় যাতে তার মল সহজেই পানিতে মিশে যায়। মুলত এই পরজীবীর ডিম পাখির মলের সাথে বাইরে বেরিয়ে আসে। এরপর সেই ডিমসহ লার্ভাকে এক ধরনের ক্রাশটেশিয়ান খেয়ে নেয়, এরপর সেই ক্রাসটেশিয়ানকে সিকলব্যাক নামক মাছজাতীয় প্রাণী খায়। সিকলব্যাকের ভিতর যাওয়ার পর এই পোষক আকারে এত বড় হয়, মাছের আকারও উপর্যুপরি বৃদ্ধি পায় এবং এরফলে মাছশিকারী পাখির সহজ শিকার হয় সিস্টোসেফকলাস দ্বারা সংক্রমিত মাছ।

৪। গ্লায়েপটাপ্যানটিলিস (Glyptapanteles)

Glyptapanteles

লিউকোক্লোরিডিয়ামের সদস্যরা যেমন শামুককে আক্রমণ করার মাধ্যমে তার রঙকে কিছুটা শুঁয়োপোকার মত করে ফেলে, এরূপ এমন এক প্রজাতির পরজীবী আছে, যারা সরাসরী শুয়োপোকাকেই আক্রমণ করে। এদের নাম হলো গ্লায়েপটাপ্যানটিলিস নামক একপ্রকার বোলতা। এই বোলতার বিশেষত্ব হলো এরা পোষককে হত্যার উদ্দেশ্যে কিছু করে না, বরং পোষককে বডি গার্ড বানিয়ে ফেলে। এই বোলতা থাইরেনটিনা নামক শুয়োপোকাতে প্রথমে ডিম পারে, সেই ডিম ফুটে লার্ভা বের হয় এবং শুয়োপোকার ভিতরেই বড় হতে থাকে। এসময় লার্ভাগুলো পুষ্টির জন্য শুয়োপোকার শরীরের রস চামড়া খেতে থাকে। একবার লার্ভা পূর্ণাঙ্গ হয়ে যাওয়ার পর তা বেরিয়ে আসে, এবং তার জীবনচক্রের পরবর্তী ধাপ কোকুনে পরিণত হয়। কিন্তু এবার একটি নতুন ঝামেলা উত্থিত হওয়ার কথা ছিল। কোকুন দশায় বোলতার পূর্ণাঙ্গ লার্ভা কিন্তু সম্পুর্ণভাবে অসহায় থাকে, তারা এসময় স্থিরভাবে কোকুন ফেটে বেড় হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। এখন এসময় যদি কোনো বহিঃশত্রু এসে এই পরজীবীর কোকুনে হামলা চালায়, তাহলে তারা সেখানেই শেষ। কিন্তু প্রকৃতির মত “দ্য গ্রেটেস্ট গেম শো” এর সঞ্চালক যখন আছে তখন টুইস্ট থাকবে না, তা কী হয়? দেখা যায়, এই কোকুনকেই শুয়োপোকা পাহারা দিতে থাকে, ঠিক যেভাবে মা তার সন্তানকে পাহারা দেয়, ঠিক যেভাবে বডিগার্ড তার জিম্মায় থাকা মানুষকে পাহারা দেয়। এসময় যদি কোনো বহিঃশত্রু এসে হামলা চালাতে চায়, তবে শুয়োপোকা গ্লায়েপটাপ্যানটিলিস এর সদস্যদের জন্য বহিরাগতকে আক্রমণ করে।
h

৫। হাইমেনিপিমেসিস (Hymenoepimecis argyraphaga)

Hymenoepimecis argyraphaga

প্রকৃতিতে সন্তানের কল্যাণে আত্মদানের জন্য মাকড়সার উদাহরণ সর্বজন গ্রাহ্য। ডিম ফুটে বাচ্চা হওয়ার সময়, মা মাকড়সা যেভাবে নিজেকে আত্মোৎসর্গ করে, এরকম উদাহরণ প্রকৃতিতে কয়টাই বা পাওয়া যায়? কিন্তু প্লেসিওমেটা (Plesiometa argyra) নামক এক প্রকার মাকড়সা রয়েছে, যা সত্যিকার অর্থেই যেন গরীবের বউ। আমাদের দেশে যেমন কাকের ঘরে কোকিল ডিম পারে, ঠিক একইরকম তবে আরো খারাপ ভাবে হাইমেনিপিমেসিস নামক এক বোলতা এই মাকড়সার দেহেই পারে ডিম। কোস্টারিকায় প্রাপ্ত এই জাতের প্রাপ্তবয়স্ক নারী বোলতা যখন ডিম পাড়ার উপযোগী হয়, তখন সে প্লেসিওমেটা নামক মাকড়সাকে খুঁজে বের করে। প্রথমে সে মাকড়সাকে অবশ করে তার উদরে ডিম পারে। এরপর মা বোলতা পরজীবিটি মাকড়সাকে ত্যাগ করে। যখন ডিম থেকে লার্ভা বের হয় তখন লার্ভাগুলো মাকড়সা রক্তকে পুষ্টি (hemolymph) হিসেবে গ্রহণ করে।

এর কয়েকদিন পর, লার্ভাগুলোর প্রয়োজন হয় তাদের জীবনচক্রের দ্বিতীয় ধাপ সম্পন্ন করা, আর এজন্য লার্ভাগুলোর প্রয়োজন হয় কোকুন তৈরী করা। মাকড়সার জাল হলো কোকুন তৈরীর জন্য ভালো একটি জায়গা। মাটি থেকে অনেক উপরে থাকায় স্থলচরদের থেকে অনেকটাই সেফ। কিন্তু এখানে একটা ঝামেলা আছে, তা হলো কোকুন তো যথেষ্ট ভারী, আর মাকড়সার জাল পাতলা। তাহলে তো ভারী মুশকিল, যদি কোকুনের ভারে জাল ছিড়ে পরে যায়, তাহলে লার্ভাকে আর ডাগর হয়ে উড়তে হবে না। সেখানেই হবে সলিল সমাধি। তখন এই লার্ভা মাকড়সার দেহে এমন এক রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে, যা মাকড়সার স্বভাবই পালটে দেয়। এবার মাকড়সা জাল তৈরী করতে শুরু করে, কিন্তু একবারেই জাল বানানো শেষ করে না। শেষ না করেই বারবার সে জালের উপর জাল বুনতে থাকে, যার ফলে জালটি দৃঢ় আর মজবুত হয়। একবার শক্ত জাল বানানো শেষ হলে, মাকড়সা গুটি গুটি পায়ে গিয়ে জালের একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে গিয়ে বসে। তাকে দেখে মনে হয়, সে আত্মসন্তুষ্ট। এরপর লার্ভাগুলো কালসাপের মত কাজটা শেষ করে।

তাদের জন্মের সময় আশ্রয়দাতাকে বিষাক্ত পদার্থ দিয়ে মেরে ফেলে এবং বেরিয়ে এসে কোকুন তৈরী করে। তার কিছুদিন পর কোকুন ফুটে এই বোলতা বের হয়ে মুক্ত আকাশে উড়ে যায়। শেষ হয় তাদের জীবনচক্র, পিছনে ফেলে রেখে যায় উপকারীকেই জম্বি বানানোর একটি পুনরাবৃত্ত অধ্যায়ের গল্প, হাজার বছরের পুরনো গল্প।

তথসূত্র

১।ইউহাপ্লোর্সিস ক্যালিফোর্নিয়েন্সিস (Euhaplorchis californiensis)
(i) https://animaldiversity.org/accounts/Euhaplorchis_californiensis/

২। লিউকোক্লোরিডিয়াম (Leucochloridium paradoxum)
(i) https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/18903602
(ii) http://onlinelibrary.wiley.com/doi/10.1111/jzo.12094/pdf

৩। সিস্টোসেফকলাস (Schistocephalus solidus)
(i) https://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S0003347283800256

৪। গ্লায়েপটাপ্যানটিলিস (Glyptapanteles)
(i) https://www.newscientist.com/article/dn14053-zombie-caterpillars-controlled-by-voodoo-wasps/amp/

৫। হাইমেনিপিমেসিস (Hymenoepimecis argyraphaga)
(i) http://mentalfloss.com/article/51970/meet-wasp-turns-spiders-zombie-construction-workers
(ii) http://www.bbc.com/earth/story/20150522-the-wasps-that-rule-the-world

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.