সঙ্গম করার সময় বাস্তবে কি পরিমাণ ক্যালোরি পোড়ে?

আপনি কী কাজ করছেন এটা কোন বিষয় নয়। আপনি সব সময় ব্যায়াম এবং ক্যালোরি পোড়ান। আপনি কি জানেন আপনি ১০ মিনিট হাসলেও ৫০ ক্যালোরি পুড়ে? এমনকি দুই মিনিট দাঁত ব্রাস করলেও ৫.৭ ক্যালোরিস পুড়ে। যৌনতা এমনটা বিষয় যেটা সবচেয়ে বেশী আনন্দদায়ক ব্যায়াম এবং এতে বেশ অনেক পরিমাণই ক্যালোরি পুড়ে, কিন্তু গড়ে কি পরিমাণ পোড়ে তা বলা বেশ শক্ত। কেউ কেউ বলেন যৌনকর্মে প্রায় ৬৯ ক্যালোরি। অন্যান্য ব্যায়াম করলে ২০০ ক্যালোরির উপর পোড়ে।

“নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন” এর একটি মেদবহুলতা বা স্থুলুতা গবেষণায় এ সম্পর্কে সামান্য কিছু রেফারেন্স আছে, এখানে মন্তব্য করা হয়েছে মধ্য হতে ৩০ বছর বয়সের আগ পর্যন্ত যৌনতাকর্মে স্থায়ীত্ব ৬ মিনিট হলে—মাত্র ২১ ক্যালোরি পুড়ে। যৌনকর্ম করার সময় একজন ব্যক্তির শক্তি রুপান্তরের(বিপাক) হারের উপর ভিত্তি করে মোটামুটি মূল্যায়ন হয় — বলা যায় এটা বেশ ভাল অনুমান।

স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে এসব হিসাব করা বেশ জটিল। কতগুলো ফ্যাক্টরের পরিমাণের উপর নির্ভর করে—কিন্তু কতটা তার পরিসীমা নেই—যেমন পুরুষ অথবা নারী, অসার উল্লম্ফন, কত সময় কামোত্তেজনা থাকে, কতটা প্রাণশক্তিসম্পন্ন, হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যগত সম্পর্কের সাথেও সম্পর্কিত, পেশীশক্তি, এবং অবশ্যই সেক্সুয়াল পজিসন—এর সব গুলোই এ ফ্যাক্টরের মধ্যে অন্তভূক্ত। তাই কোন উপায়ের যৌনকর্মে সবচেয়ে বেশী ক্যালোরি পুড়ে? তা দেখতে চলুন দেখি বিজ্ঞান কি বলছে:

 

ক্যালোরির হিসাব

শারীরিক সক্রিয়তা বা কার্যকলাপ পারতপক্ষে যৌনতার সাথে অন্তভূক্ত, এতে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ শক্তি ব্যবহার হয়। যত বেশী পেশীশক্তি আপনার আছে ততবেশী শক্তি আপনি ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়, এবং যতবেশী নিঃশ্বাস নেওয়ার প্রয়োজন হয় ততবেশী শক্তি ব্যবহার হবে।

ফলে, যদি বেশী সময় ধরে সঙ্গম করেন এবং পেশীর শক্তিও সে পরিমাণ থাকে, আপনি অনেক বেশী ক্যালোরি পুড়তে পারেন। ব্যায়াম করার ক্ষেত্রে এটাই হলো মৌলিক বিজ্ঞান। উপরন্তু শুধু যৌনক্রিয়ার চেয়ে যৌনক্রিয়ার করার আগে কামোত্তেজক কর্মকান্ড যেমন স্বস্ফুত নাচ সহ অন্যান্যে দীর্ঘায়িত হলে ক্যালোরি বেশী পুড়ে। আরেকটা বিষয় আছে যেমন, অর্গাজম বা কামোত্তেজনা যদিও এটা সেভাবে বিচিত হয় না, তারপরও ক্যালোরি পুড়তে সাহায্য করে।

 

জৈবিক ফায়ারওয়ার্ক

অর্গাজমে বেশ শক্তির প্রয়োজন হয় এবং এটা শুধুমাত্র উত্তেজিত করার প্রয়োজনেই নয়। স্পষ্টতই যদিও অর্গাজমে যত দীর্ঘ সময় নেওয়া হয় বিভিন্ন ধরের পারস্পরিক কাজে তত ক্যালোরি উদ্দীপকে পুড়বে—কিন্তু অর্গাজমের জন্য কতজন সৌভাগ্যবান আছে?

অর্গাজমে প্রচুর হরমোন নিঃস্বরিত হয়, রক্তপ্রবাহ বেড়ে যায়, বিভিন্ন সেক্সুয়াল তরল উৎপন্ন হয় এবং বেড়িয়ে যায়—এর সবকিছুতেই শক্তি ব্যয় হয়। তথ্যানুসারে অর্গাজম প্রক্রিয়ায় গড়ে ৬০ থেকে ১০০ ক্যালোরি পুড়ে। আরেক জায়গায় দাবী করা হচ্ছে মাত্র ৩ ক্যালোরি।

যাই হোক, অধিকাংশ পুরুষ অর্গাজমের পর ‘অদমনীয়’ সময় অথবা বিশ্রামের সময় নেন এবং নিস্তেজভাব না কাটিয়ে উঠা পর্যন্ত আবার অর্গাজম অর্জন করতে পারে না। গড়ে তাদের ৩০ মিনিট বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। কিছু নারী প্রায় অনির্দিষ্টকাল ধরে একই সময়ে অর্গাজম পেতে পারে, তাই তারা অর্গাজমের সময়কালে কামোত্তেজনা সেসনে এই বিবেচনায় বেশ ক্যালোরি পুড়তে পারে। তারা নিশ্চিতভাবে এই দফায় জিতে যায়।

 

বিব্রতকর অবস্থান বা পজিশন

যতবেশী সেক্স করার সময় পজিশন বা অবস্থান নেওয়া হয় ততবেশী ক্যালোরি পুড়ে, কিন্তু সরলতার খাতিরে যদিও পুরো সময়টা একই অবস্থানে ধরে রাখা হয়। সেক্স পজিশন গুলো যেমন:  ডগি স্ট্যাইল, বিপরীত বা কাউগার্ল, ক্লাসিক মিশনারি বা ঝুঁকিপূর্ণ যেগুলোকে বলা হয় প্যাশন প্রপেলার।

কোন পজিশনে সঙ্গম করলে সবচেয়ে বেশী ক্যালোরি পোড়ে? আসলে এই বিষয়ে খুব বেশী গবেষণা হয়নি। একটি উৎসাহী দম্পতি সতর্কাবস্থায় হাই-টেক কার্ডিওভাসকুলার নির্নয় করার যন্ত্রপাতি নিয়ে খুবই কঠিন। অবশ্য এর বেশ কিছু বিশেষ কারন আছে। তাই বেশীরভাগ পাবলিকেশন এসব বিষয়ে অনুমানের উপর ভিত্তি করে একঝলক প্রকাশ করে।

অনলাইন ফার্মেসি ইউকে মেডিক্স নামে একটি কোম্পানি কিছু পরিকল্পিত কারনে এক সেক্স ক্যালকুলেটর তৈরি করেছে। বিছানায় প্রাণচাঞ্চল্যের উপর ভিত্তি করে এই ডিজিটাল কিইরিসিটি দাবী করে এই কাজের ক্ষেত্রে কত পরিমাণ ক্যালোরি পুড়তে পারে। অংশগ্রহণকারী পুরুষ বা নারী, সেক্স পজিশন, ওজন ইনপুট দিয়ে একটা হিসাব পাওয়া যায়।

সঠিক বা নির্দিষ্টভাবে দেখাতে পারে না—যখন ওজন জিজ্ঞাস করা হয়, একটা অপশন “সব সময় ডানপাশে হেলে থাকে,” যেটা প্রায় বলতেছে গড় ওজন”। ড্রপডাউন বক্সের সময় এর রেঞ্জটা “ধীর এবং নমনীয়” থেকে “দ্রুত এবং ক্ষিপ্র” চলে আসে। এমন কিছু বিজ্ঞানভিত্তিক হওয়া অসম্ভব।

তদুপরি আরেকটা ইউকে ফার্মেসির অনলাইন ক্যালকুলেটর ‘সুপারড্রাগ’ মনে হচ্ছে হাস্যকরভাবে বিস্তারিত তুলনা করে। এখানে যদি আপনি নিজে না হন তাহলে লিঙ্গ পছন্দ করতে হবে, এবং আপনার সঙ্গীর সহ। ব্যবহারকারী সংখ্যা বসিয়ে সঠিক ওজন বসাতে পারেন।

content-1475842963-average-sexytime

যৌনতা ১৫ মিনিট স্থায়ী ধরে “পরিমিত তীব্রতা” এবং ৮৯ কিলোগ্রাম গড় ওজন ব্যবহার করে ফলাফল আসে অবিশ্বাস্য রকমের।

একজন পুরুষের জন্য স্ট্যান্ডিং-ভিত্তিক সেক্সে ৮০ ক্যালোরি পুড়ে, ডগি স্ট্যাইল অনুসরণ করলে ৭৬, মিশনারি ৭২, স্পুনিং ৬৭ এবং কাউগার্লে ২৫। একজন মহিলার জন্য কাউগার্লে ৬৭, ডগিতে ৫৪, স্ট্যাডিং ৫৩, স্পুনিং ৪৮ এরপর মিশনারিতে ২৪ ক্যালোরি পুড়ে। বলতে গেলে বেশীরভাগ অবস্থানই দুইজনের কিছু না কিছু ক্যালোরি পোড়ে। ব্যবহারিক দিক থেকে দেখলে অবশ্যই বুঝা যায় যদিও অনেকের অভিজ্ঞতায় ভিন্নতা থাকে।

 

সঠিক বিজ্ঞান নেই

সুপারড্রাগ ক্যালকুলেটরে হাস্যকরভাবে কিছু দৃশ্য দেখলে বুঝা যায়। যেমন মিশনারি পজিশনে ২ ঘন্টা সঙ্গম করলে পুরুষের ক্ষেত্রে ৫৭০ ক্যালোরি পুড়া দেখায়। মহিলাদের ক্ষেত্রে কাউগার্ল পজিশনে ৫৩৭ ক্যালোরি। প্রাথমিকভাবে মহিলাদের জন্য ভরের বেশী-কমের উপর নির্ভর করে ক্যালোরি পুড়ান দেখিয়েছে।

বলতে গেলে মিশনারি ম্যারাথন সেক্স এর সাথে সমান করলে ৪৬ মিনিট টেনিস খেললে, ৭৪ মিনিট সাতার কাটলে অথবা ৯.৩ কিলোমিটার হাটার সমান হয়। আরেকটি উদাহরণ হিসেবে নিলে ৭.৭ কিলোমিটার দৌড়ানো, ১৪৩ মিনিট যোগব্যায়াম করা, অথবা ৯৫ মিনিট নাচলেও একই সমান ক্যালোরি পোড়ে। তাই থিরিটিক্যালি বলা যায় সেক্স প্রচলিত ব্যায়াম মতোই ব্যায়াম যদি ক্যালোরি ক্ষয় করার কথা চিন্তা করেন।

আপনার যদি আগ্রহ থাকে দেখবেন একজন পুরুষ একজন মহিলার সাথে ওরাল সেক্স ৪০ ক্যালোরি সেখানে একজন মহিলার ক্ষেত্রে ৩৪ ক্যালোরি। একইভাবে যদি দেখেন একই লিঙ্গ ভিত্তিক দম্পত্তি ঠেলাগাড়ি বা হুইলব্রো পজিশনে কতটা শক্তি ক্ষয় হয়। এখানে থেকে গাণিতীক হিসাবটা দেখে নিতে পারেন।

এই পদ্ধতিতে এই কম্প্রিহেনসিব ক্যালকুলেটরে বিস্তারিত ফলাফল দেখায় না, কিন্তু Fractl ডিজাইনাররা মনে হয় সুনাম-ধন্য কনটেন্ট এজেন্সি যারা উপাত্ত উপস্থাপনে গুরুত্বদেয়।

বিভিন্ন ধরনের বৈজ্ঞানিক ধারণার এবং পেপার রেফারেন্স দেয়। কিন্তু ক্যালোরি পোড়ানোর বিষয়ে তথ্য গুলো নেয় ‘পজিশন অফ দ্যা ডে প্লেবুক’ বই থেকে। এই বইয়ের তথ্য গুলো কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে বা কোন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি আছে কি না তাদের রেফারেন্স নেই।

যদিও অনেক কিছু পরিষ্কার করে বলা হয়েছে তারপরও এগুলোর সঠিক বিজ্ঞান নেই।

 

যাইহোক আপনার নৌকা ভাসান

যদিও ছোটখাট মতবিরোধ আছে, এটা প্রায় নিশ্চিত যে বেশ বলিষ্ঠ সক্রিয় পজিশনগুলোয় ক্যালোরি পুড়ে এবং গড়ে মহিলাদের তুলনায় পুরুষ একটু বেশী পুড়ে। কারন তাদের শরীরের ভর ও ওজন বেশী, তাই পুড়াতে পারেও বেশী।

content-1475844778-shutterstock-373384192

এখানে বেশীরভাগ ক্যালোরির হিসাব আক্ষরিকভাবে অনুমান করে বৈজ্ঞানিক ফিল্টারের মাধ্যমে অস্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছে। তাই, যদি আপনি ক্যালোরি পোড়ার জন্যই সঙ্গম করে থাকেন তাহলে এবং এইসব ক্যালকুলেটর হিসাব দেখেন আপনার কাছে অস্বাভাবিক মনে হবে। তবে আর যাই হোক সঙ্গম করলে ক্যালোরি আপনার পুড়বেই।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.